বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়ালো: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

খবরে জানা গেছে, ইরানের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পারসে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালালে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তেল ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়, ফলে এর ওপর যেকোনো ধরনের বাধা সরাসরি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তেলবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও দুবাই ক্রুড ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দামও ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি অনেকাংশে নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ থাকে এবং আঞ্চলিক সংঘাত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি, পরিবহন খরচ এবং ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যমূল্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *